কেন শাওমির (Xiaomi) ফোন কিনবেন?

আপনার ফ্রেন্ডদের কেন আপনি শাওমির ফোনগুলো কিনতে উৎসাহিত করবেন?? যথেষ্ট বড় পোস্ট, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পড়তে বসুন।আমরা যারা শাওমির মোবাইলগুলো ব্যবহার করি, তারা প্রায় সবাই ফ্রেন্ডদের শাওমির সেটগুলো কেনার জন্য প্রেফার করি। কিন্তু কেন প্রেফার করি, তা হয়তো এক/দুই লাইনের বেশি বলতে পারি না। কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখে নেয়া যাক কেন মিড রেঞ্জের অন্যান্য ফোন না নিয়ে শাওমির সেটগুলো নিবো, কি কি ফিচার এটায় আছে যার কারণে আমাকে শাওমির সেটগুলোই নিতে হবে। আপনি যাস্ট পোস্টের শেষে শর্টলিংকটা মনে রাখুন আর ফ্রেন্ডদের দিন, ব্যাস আপনার আর আজাইরা প্যাঁচাল পারা লাগবে না। উল্লেখযোগ্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার নিয়ে কথা বলা যাক।

ডিজাইন, চোখ জুড়ানো বিল্ড কোয়ালিটি

দেশীয় বিভিন্ন মিড রেঞ্জের সেটগুলোতে সাধারণত মেটাল বডি না দিয়ে প্লাস্টিক বডি দেয়া হয়, যার কারণে হাত থেকে পড়ে যেকোন ক্ষতি হতে পারে। যেখানে শাওমির সেটগুলোতে মেটাল ডিজাইন দেয়া হয়, অর্থাৎ ব্যাকপার্ট মেটাল বডির হয়ে থাকে। তাছাড়াও, শাওমির নজরকাড়া ডিজাইন আর ইউনিক মেটাল বডির কারণে সেট হাতে নিয়ে আপনি যে প্রিমিয়াম ফিল পাবেন, সেটা একই বাজেটে অন্যান্য ফোনগুলোতে পাবেন না। হ্যান্ডসেট হাতে নিয়ে ঘুরলে মানুষ আপনার দিকে না তাকালেও একটাবার আপনার হ্যান্ডসেটের দিকে ঠিকই তাকাবে।

Cloud Security

দেশীয় কোন ফোনে, ইভেন স্যামসাং এও ক্লাউড সিকিউরিটি ব্যবহার করা হয়না। যেখানে শাওমিই দিচ্ছে আইফোনের মত ক্লাউড সিকিউরিটি, যার কারণে আপনার ফোন হারিয়ে গেলে আপনি ঘরে বসেই মোবাইল লক করে দিতে পারবেন, যেন কেউ মোবাইল লক করতে না পারে। ক্লাউড লক করে দিলে ফ্ল্যাশ করেও কোন লাভ হবে না, সেটআপ প্রসেস কমপ্লিট হওয়ার আগেই আপনাকে ক্লাউড অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করতে বলবে। আর আপনার আইডির পাসওয়ার্ড কেবল আপনিই জানেন, অন্য কেউ জানার প্রশ্নই আসে না। তাই সেট ব্যবহারের ইচ্ছা আজীবনের জন্য সেকেন্ড পার্সনকে বাদ দিতে হবে। তাছাড়াও রয়েছে ডেটা ইরেজ করার সিস্টেম, আপনি চাইলে ঘরে বসেই আপনার মোবাইলের ফুল ইন্টার্নাল+এক্সটার্নাল স্টোরেজ ওয়াইপ করে দিতে পারেন। চাইলে চুরি হওয়া মোবাইলে বিভিন্ন টেক্সট সেন্ড করতে পারেন, যেখানে আপনার সাথে যোগাযোগ করার কথাও লিখে দিতে পারেন। Android Device Manager এর দোহাই দিবেন না আশা করি।

Auto Synchronization

আপনি চাইলে যখন ইচ্ছা আপনার ফটো, ভিডিও, কললিস্ট, ম্যাসেজ, নোট ইত্যাদি আপনার জন্য নির্ধারিত ক্লাউড স্টোরেজে সিনক্রোনাইজ করতে পারেন। তাই সেট চুরি হলে বা আপনার প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে এসব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলেট করলেও সেগুলো মুহূর্তেই ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ওয়াইফাই কানেক্ট করে সিনক্রোনাইজেশন অন করে দিলে নিজে থেকেই এসব ক্লাউড স্টোরেজে ব্যাকআপ নেয়া শুরু করে দিবে।

থার্ড-পার্টি অ্যাপ্স ব্যবহার নিষ্প্রয়োজন

 

আপনারা সবাই জানেন, শাওমি তাদের রমে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফিচার অ্যাড করেছে, যেগুলো প্রায় সব মোবাইলেই থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করে প্রয়োজন মেটানো লাগে। এমন কিছু অ্যাপের কথা না বললেই নয়, যেগুলো রমের মধ্যেই দিয়ে দেয়া আছে, আপনাকে কোন অ্যাপ্স ডাউনলোড করার দরকার নাই।

Internet Speed Meter (To check current internet speed)
Internet Speed Monitor (To check which app is using your current data)
In-built Firewall (To restrict access of unusual app’s internet activity, No-Root Firewall)
Night Mode (To reduce brightness during reading PDF or at night)
Backup & Reset (To backup of your important apps(with data), call list, messages & everything that you need & restore them anytime you want)
Clean Master (Built in cleaner to clean junk files)
Avast/Tencent Antivirus (To scan malware that can steal sensetive information)
Applock(To hide your apps & use fingerprint to unlock if you want)
File Hide (Hide your personal files)
Child Mode (Let your children use your mobile with limited features)
Quick Ball (Simple floating shortcut to access your favourite apps fast, known as sidebar)
Screenshot & Lock Shortcut (Built in screenshot & lock button to reduce volume button usage)
Auto Call Record (Call record automatically I’m fixed numbers)
Call & SMS Block (Block Unwanted Messages & Calls)

Unique User Interface & Battery Optimization

 

MIUI এর রয়েছে নিজস্ব ইউনিক ইউজার ইন্টারফেস, যা হ্যান্ডসেট ব্যবহারে আপনার অভিজ্ঞতাই পালটে দেবে। MIUI এর ইউজার ইন্টারফেস কারও নজর কাড়েনি, এমন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়াই দায়। তাছাড়া MIUI এর রয়েছে বিল্টইন ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন সিস্টেম, যা আপনার ব্যাটারি লাইফকে দীর্ঘায়িত করবে, একটানা ৮/৯ ঘণ্টা ননস্টপ ব্যবহারের জন্য ব্যাটারি অপ্টিমাইজ করে দিবে।

OTA Update

শাওমির সেট একমাস আগে কিনেছেন এবং এখনও আপডেট পাননি, এমন ব্যক্তি আসলেই নাই যদি সে অফিশিয়াল রম ব্যবহার করে থাকে। প্রায় প্রত্যেক মাসেই আপনি পাবেন OTA Update, যেখানে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন প্রয়োজনীয় ফিচার অ্যাড করে ও সিকিউরিটি সংক্রান্ত বিভিন্ন বাগ ফিক্স করে, আর ডেভেলপার রম ব্যবহার করলে প্রত্যেক সপ্তাহেই একটা দুইটা করে নতুন ফিচার পাচ্ছেন। শাওমিই হচ্ছে একমাত্র কোম্পানি, যারা ইউজারদের ফীডব্যাক চায়, ইউজারদের কাছে জানতে চায় আপনাদের কোন ধরনের ফিচার দরকার, সেই অনুযায়ী ডেভেলপাররা কাজ শুরু করে দেয়। শাওমির গ্লোবাল ফোরাম যে কতটা অ্যাক্টিভ, তা আপনার চিন্তাধারার বাইরে। সেট ব্যবহার করতে করতে বোরিং লাগছে সবকিছু??? একটাবার একঘণ্টার জন্য সেট হাতে নিলেই বোরিং ভাব চলে যাবে, তাছাড়া প্রত্যেক আপডেটে পাচ্ছেন নতুন নতুন ফিচার যা আপনার বোরিং ভাব কাটিয়ে তুলবে। তাছাড়া বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন আপগ্রেড(Lollipop, Marshmallow, Android N, L) করার ফ্যাসিলিটি তো আছেই!

Dual Apps

আপনারা অনেকেই চান দুইটা CoC/Facebook/Whatsapp এসব আইডি থাক। আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে শাওমি তাদের রমে এই সিস্টেম ডেভেলাপ করেছে, কোন থার্ড পার্টি ক্লোনিং অ্যাপ্স ব্যবহার করার প্রশ্নই আসে না!! এটা যে কত বড় আর গুরুত্বপূর্ণ একটা ফিচার, তা এর ইউজাররাই ভালো বলতে পারবে।

Second Space

আপনারা পিসিতে ডুয়েল ব্যুট এর কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। শাওমির রয়েছে এমন এক অসাধারন ফিচার, যার মাধ্যমে আপনার কাছে মনে হবে আপনি দুইটা মোবাইল ব্যবহার করছেন। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। গত পরশু “S” নামের আমার একটা ফ্রেন্ড ফটোগ্রাফি আর স্মার্টনেস দেখানোর জন্য ভার্সিটির র‍্যাগিং প্রোগ্রামে আমার মোবাইল নিয়ে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই বলেছিল। এখন যদি আমি ওকে আমার পার্সোনাল বিভিন্ন ফাইল, অ্যাপ্সসহ ওকে মোবাইলটা দেই, তখন কিছু না কিছু ঝামেলা লাগতেই পারে। এজন্য আমি কি করলাম, সেকেন্ড স্পেস চালু করে দিলাম, যার কারণে মোবাইলটাকে দুইটা ভাগে ভাগ করলাম, একভাগ আমার জন্য, আরেকভাগ ওর জন্য। একভাগে আমার সব অ্যাপ্স বা ফাইল থাকবে, আরেকভাগে ওর পার্সোনাল সব জিনিস থাকবে। এখন আমি চাইলে পাসওয়ার্ড দিয়ে ওর স্পেস এ যেতে পারবো, কিন্তু ও চাইলেও পাসওয়ার্ড ছাড়া আমার স্পেসে আসতে পারবে না। অর্থাৎ ওর কাছে সম্পূর্ণ নতুন মোবাইল দিয়ে দিলাম, ভিতরে কি আছে তা একমাত্র আমিই জানি। আমার প্রাইভেসি লিকেজ হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই।

Security Permission

কোন কোন অ্যাপ্স আপনার মোবাইলের কোন কোন পারমিশন চাচ্ছে, আপনি চাইলে তা সুনির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। যেমন ধরুন, আপনি জানেন এই অ্যাপ এর সাথে গ্যালারির কোন সম্পর্ক নাই, অথচ এটা আপনার ফটো অ্যাক্সেস করার পারমিশন চেয়ে বসে আছে, হয়তো ভালো কারণে কিংবা অবৈধ কোন কারণে, আপনি চাইলে ঐ নির্দিষ্ট পারমিশন রেস্ট্রিক্ট করে দিতে পারবেন। প্রাইভেসি লিকেজ সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

One-Handed Mode

আপনার শাওমির হ্যান্ডসেট অনেক মোটা?? টাইপ করতে কষ্ট হয়??? শাওমি ইন্ট্রোডিউস করেছে এমন এক ফিচার, যার মাধ্যমে আপনি চাইলে মোবাইলের স্ক্রিনকে ৩.৫”/৪”/৪.৫” করে টাইপসহ মোবাইলের বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন।

Built-In-Powebank & Others

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপারটা এখনো বলা হয়নি তা হচ্ছে শাওমির সব প্রায় সব সেটেই রয়েছে ৪০০০ mAh+ মিলি-অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যাকে আপনি পাওয়ার ব্যাংকের সাথে তুলনা করতে পারেন। ২৫০০/৩০০০ মিলি-অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারির স্মার্টফোনে যেখানে বাজার সয়লাব, সেখানে শাওমিই দিচ্ছে আপনাকে পাওয়ার ব্যাংক থেকে মুক্তি!! দ্বিধাহীন ভাবেই বলা যায়, বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য প্রত্যেকেই ব্যাটারিজনিত সমস্যায় ভোগেন, ৪/৫ ঘণ্টা সেট ব্যবহার করলেই চার্জ শেষ, একদিনে তিন/চারবার চার্জ দেয়া লাগে। সেখানে সকালে একবার ১০০% চার্জ করে নিলে সারাদিন মোবাইল ব্যবহার করেও আপনি মোবাইলের ব্যাটারি লো(১০%) করতে পারবেন না। আপনি হয়তো আফসোস করবেন, কি সেট কিনলাম, চার্জই যায়না, ধুর, একদিনে দুই/তিনবার চার্জ দিতে না পারলে ভালো লাগে নাকি??? অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছে না??????
ইভেন ব্র‍্যান্ডের সব সেটগুলোতেও ২৫০০ মিলি-অ্যাম্পিয়ারের বেশি ব্যাটারি দিতে চায়না।

পরিশেষে, শাওমি একটা চাইনিজ কোম্পানি। আমাদের অনেকেরই পাকিস্তানের পাশাপাশি চায়না দেশ নিয়ে নাক সিঁটকানোর মত অবস্থা হয়েছে, আমাদের কাছে চায়না সেট মানেই লো কোয়ালিটি সেট। কথা সত্যি অনেকাংশে, বাট পুরোপুরিভাবে না। চাইনিজরা পারে না এমন কয়েকটা হাতেগণা জিনিস আছে। স্মার্টফোনের ব্যাপারে আপনাদের কনসেপ্ট পুরোপুরিভাবে পালটে দিতেই শাওমির আগমন। কম দামে কিভাবে ভালো কোয়ালিটির হার্ডওয়্যার দিয়ে সেট বানাতে হয়, তা শাওমি দেখিয়ে দিয়েছে। আমি স্যামসাং বা অন্য কোন সেটের সাথে শাওমিকে তুলনা করছি না, কারণ শাওমিরও অনেক ল্যাকিং থাকতেই পারে। কিন্তু একই কনফিগারেশনের একটা স্যামসাং এর সেটের সাথে শাওমির একটা সেটের প্রাইসের কথা তুলনা করলেই বিষয়টা আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। স্যামসাং অবশ্যই ভালো স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, তবে মিড-রেঞ্জে স্যামসাং আপনাদের চাহিদা মেটাতে পারবে না, যা শাওমি মিটিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন আসতেই পারে, শাওমির নাম কেন মানুষ এত কম জানে???? উত্তর হচ্ছে, শাওমি মার্কেটিং এ তেমন টাকা খরচ করে না। একটা কোম্পানি মার্কেটিং এ যতই টাকা খরচ করুক, সেটা কিন্তু মোবাইলের দামের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে, অর্থাৎ চূড়ান্ত ভোক্তা হিসেবে আপনাকেই মার্কেটিং এর খরচ বহন করতে হবে, যার কারণে স্মার্টফোনের দাম বেড়ে যায়। ঠিক এই কারণেই শাওমি মার্কেটিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে করে স্মার্টফোনের দাম সবচেয়ে কমে রাখছে।

আমি হয়তো আপনাকে সেট কেনার জন্য বাধ্য করতে পারবো না, তবে আমাকে আপনার স্মার্টফোন কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারকারী একটা উপাদান হিসেনে গণ্য করতে পারেন। কোন সেট কিনবেন তা আপনার ব্যাপার, সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার। শাওমির নাম শুনে আপনার দিকে ভ্রূ-কুঁচকাবে, অথচ ব্যবহারকারী হিসেবে আপনারই তার দিকে ভ্রূ-কুঁচকানোর কথা। আপনি যদি সেট ব্যবহার করে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে কে কি বললো তাতে আপনার কিছু যায় আসবে না, কারণ সেট কিনবেন আপনার নিজের বা বাবার টাকায়, ব্যবহার করবেন আপনি নিজে। নাক-সিঁটকানো পাবলিকদের ১ ঘণ্টার জন্য আপনার সেটখানা ব্যবহার করতে দিন, তারপর নাক-সিঁটকাতে বলুন।

সংগ্রীহিত

Leave a comment

Abdullah Al Fahim
 

I love Digital Marketing & Technology. like be honest and being with honest people.I can build your website and optimization yor website(SEO).i take my job seriously....... Just Knock me.... 01748361602 http://facebook.com/av.fahim

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments

Leave a Reply: